6:32 am - Tuesday December 12, 2017

ব্রুনাই রাজ পরিবারের আম চাষ হচ্ছে বাংলাদেশের মাগুরায়, ওজন সাড়ে ৪ কেজি

ব্রুনাই রাজ পরিবারের আম এখন চাষ হচ্ছে মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালি গ্রামের আতিয়ার মোল্যার নার্সারিতে। দেশি আম যখন প্রায় শেষ সে সময়ই মাগুরার আতিয়ারের নার্সারিতে দেখা যাচ্ছে ব্রুনাই কিং জাতের চার সাড়ে চার কেজি ওজনের আম। ‘ব্রুনাই কিং’ নামে বিশাল আকৃতির আমের এ জাতটির একেকটি আমের ওজন প্রায় সাড়ে ৪ কেজি। সারাদেশে ব্যাপক সাড়া জাগানো এ আমের চারা সংগ্রহ করার জন্য দূর-দুরান্তের জেলা থেকে মানুষ আতিয়ার মোল্যার ‘আল আমিন নার্সারি’তে ভিড় করছেন।

ব্রুনাই কিং জাতের গাছের উচ্চতা নয় ফুটের বেশি নয়। শ্রাবণ মাসের শেষে প্রতিটি আমের ওজন হবে সাড়ে চার কেজি। আতিয়ার রহমান জানান, দুই যুগের বেশি সময় ধরে তিনি নার্সারি ব্যবসা করে আসছেন। চার বছর আগে তিনি ‘ব্রুনাই কিং’ নামের বিশাল আকৃতির আমের এ জাতটি সংগ্রহ করেন।

আল আমিন নার্সারির আতিয়ার রহমান জানান, প্রায় চার বছর আগে ব্রুনাই রাজ পরিবারে বাগান পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত আতিয়ার রহমানের ভাগ্নে ইউসুফ আলি তাকে চার কেজি ওজনের আম সম্পর্কে জানালে তিনি এই আমের ব্যাপারে আগ্রহী হন। তিনি তার ভাগ্নেকে বাড়ি ফেরার সময় ওই গাছের কলম ডাল সাথে আনতে বলেন। সে বছরই দেশে ফেরার সময় নার্সারি ব্যবসায়ী আতিয়ারের জন্য তার ভাগ্নে কলম ডাল নিয়ে আসেন। কলম ডালটি স্থানীয় একটি ফজলি আমের চারার সাথে তিনি ক্লিফটিং (কলম) করেন। কলম থেকে তৈরি গাছে দুই বছরের মধ্যেই ছয়টি আম ধরে সেগুলোর প্রতিটির ওজন হয় দুই কেজি। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে চার থেকে সাড়ে চার কেজি ওজনের ১১টি আম ধরে। যা জানাজানি হওয়ার পর এ আম নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়।

তিনি আরও জানান, দুই যুগের বেশি সময় ধরে তিনি নার্সারি ব্যবসা করে আসছেন। বর্তমানে তার ৭ বিঘা জমিতে রয়েছে নার্সারিসহ বিভিন্ন ফল ও ফুলের বাগান। ব্যবসার শুরু থেকেই তিনি দেশি-বিদেশি নতুন নতুন জাতের ফুল ও ফলের চারা সংগ্রহ করে তার নার্সারি সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় চার বছর আগে তিনি ‘ব্রুনাই কিং’ নামে বিশাল আকৃতির আমের এ জাতটি সংগ্রহ করেন।

আতিয়ার জানালেন, এ আমের চারা সংগ্রহ করার জন্য একর পর এক ফোন আসার পাশাপাশি দূর-দূরান্তের জেলা থেকে মানুষ তার নার্সারিতে আসতে থাকেন। শুধু সাধারণ মানুষ নয় মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টার ও ঢাকা থেকে কৃষি বিভাগের বড়-বড় কর্মকর্তারা তার নার্সারিতে ছুটে আসেন চারা সংগ্রহ করতে। মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর টেবিলে পর্যন্ত তার গাছের আম পৌঁছে দেয়া হয়েছে। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান থেকেও মানুষ এসে আমের চারা নিয়ে গেছেন বলে জানালেন আতিয়ার।

আমের স্বাদ সম্পর্কে আতিয়ার রহমান বলেন, এ আম শুধু আকৃতিতেই বড় নয়, অত্যন্ত মিষ্টি সুস্বাদু। কাঁচা আম খেতে পেপের মতো। সাথে টক, মিষ্টি স্বাদ। আর পাকা ব্রুনাই কিং-এর স্বাদ দেশি আম ‘মল্লিকা’-র স্বাদের মতোই বলে জানালেন আতিয়ার।

তিনি আরও বললেন, এই জাতের আমের আঁটি (বিচি) একদম ছোট হওয়ায় এক একটি আম থেকে প্রায় সাড়ে তিন কেজির উপরে জুস (রস) পাওয়া যায়। এছাড়া এই জাতের আম একটু দেরিতে অর্থাৎ শ্রাবণ মাসে পাকার কারণে এগুলোর দামও পাওয়া যায় তুলনামূলক বেশি।

এদিকে প্রথমবারের মত গত বছর তিনি প্রতিটি এক হাজার টাকা দরে কিছু আমের চারা বিক্রি করেছেন। যা থেকে আতিয়ার রহমান দুই লাখ টাকা আয় করেছেন। এ বছর তিনি ৫শ চারা তৈরি করেছেন বলে জানালেন।

অপরদিকে বৃহদাকার এবং অধিক ওজনের পাশাপাশি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছে ইতোমধ্যেই এই জাতের আম বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।


Filed in: এক্সক্লুসিভ