4:14 am - Thursday May 24, 2018

ব্রেকিংনিউজঃ সরকারি চাকরি্তে শিথিল করা হল কোটা পদ্ধতি

বাংলাদেশে প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথার সংস্কারের দাবিতে সম্প্রতি আন্দোলন বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এমন প্রেক্ষাপটে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগে কোটার কোনও পদ যোগ্য প্রার্থীর অভাবে পূরণ করা না গেলে, সেসব পদ মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হবে । জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি আদেশ জারি করে।

তবে এই আদেশ সন্তুষ্ট করতে পারেনি কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা মৌ বলছিলেন, ” একটি অংশের সংস্কার হয়েছে সেজন্য আমরা কিছুটা খুশি কিন্তু পুরোপুরি সন্তুষ্ট না। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নাতি-নাতনিদের যে সুযোগ দেয়া হচ্ছে সে অংশটা যদি বাদ দেয়া হতো তাহলে আমরা খুশি হতাম।”

আবার আন্দোলন কারীদের দুয়েকজন বলছেন, বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে কোন চাকরির জন্য তা পরিষ্কার হয়নি তাদের কাছে। তবে যে পাঁচটি দাবি করে এ আন্দোলন চলছিল দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সে আন্দোলন চলবে বলেও জানান শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অন্তিকা চৌধুরী সরকারি এই সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট বলে মনে করছেন না।
তিনি বলেন, “এটা কোনভাবেই যথেষ্ট নয়। কারণ বিভিন্ন ধরনের যেসব কোটা রয়েছে তাতে মোট চাকরির ৫৬ শতাংশই চলে যাচ্ছে কোটার মধ্যে। এর ৩০ শতাংশই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ। আমরা চাই সেটিকে ১০% এ নামিয়ে আনতে হবে”। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোন কোন শিক্ষার্থীর আশঙ্কা সরকারি এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তাদের আন্দোলনটি বানচাল করে দেয়া হবে কি-না। তবে আন্দোলন চলবে বলেও জানাচ্ছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষুব্ধরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসান আল মামুন যিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক তিনি বলেন, “একটি মাত্র দাবি পূরণ হয়েছে। এটাকে আমরা ওয়েলকাম করছি। কিন্তু বাকিগুলো হয়নি। ফলে অন্য দাবিগুলো আদায় করতে আমাদের আন্দোলন কিন্তু চলবে”।

‘কোটা পদ্ধতির সংস্কারের পরিকল্পনা নেই সরকারের’
এদিকে কোটা পদ্ধতির পুরোপুরি সংস্কারের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন কর্তৃপক্ষ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান বৃহস্পতিবার মন্ত্রনালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের কোনও পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই।মি: খান বলেন, বর্তমানে বিসিএসসহ সব সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন ধরনের কোটার জন্য ৫৭ ভাগ পদ সংরক্ষিত আছে। এই কোটা কমিয়ে আনার কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে প্রজ্ঞাপনে যে আদেশ দেওয়া হয়েছে, তাতে এমনিতেই কোটা ১০ শতাংশ কমে আসবে।

গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরাসরি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদ পূরণ করা হবে। সরকারি চাকরিতে শূন্য পদের সংখ্যা কত সে প্রসঙ্গে সচিব মোজাম্মেল হক খান বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। প্রতিদিনই তাদের মধ্য থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরে যাচ্ছেন। ফলে প্রতিদিনই সরকারি পদ শূন্য হচ্ছে। তাই সুনির্দিষ্টভাবে শূন্য পদের সংখ্যা বলা সম্ভব হবে না।

কোটা সংস্কারের দাবিগুলো কী?

‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ’এর ব্যানারে যে পাঁচটি বিষয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছে সেগুলো হল –
•কোটা-ব্যবস্থা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা (আন্দোলনকারীরা বলছেন ৫৬% কোটার মধ্যে ৩০ শতাংশই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ। সেটিকে ১০% এ নামিয়ে অঅনতে হবে)
•কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া
•সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন বয়স-সীমা- ( মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে চাকরীর বয়স-সীমা ৩২ কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০। সেখানে অভিন্ন বয়স-সীমার দাবি আন্দোলনরতদের।)
•কোটায় কোনও ধরনের বিশেষ পরীক্ষা নেয়া, যাবে না ( কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাকরি আবেদনই করতে পারেন না কেবল কোটায় অন্তর্ভুক্তরা পারে)
•চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না।

বাংলাদেশে প্রচলিত কোটা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা শুধু শিক্ষার্থী বা চাকরি-প্রার্থীদের মাঝেই রয়েছে তেমনটি নয়, বিশেষজ্ঞদেরও মতামত রয়েছে কোটা সংস্কারের পক্ষে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাতকারে সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিব আকবর আলি খান সম্প্রতি বলেন, বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির সরকারী চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত বলে তিনি মনে করেন ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সন্তানদের সুবিধা দেবার জন্য প্রথমে এ কোটা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু এখন মুক্তিযোদ্ধাদের নাতী-নাতনীদের জন্য এ কোটা প্রযোজ্য হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। আকবর আলি খান বলেন, বাংলাদেশের সরকারী চাকরিতে এখন ২৫৮ ধরনের কোটা আছে। এ কোটা ব্যবস্থার কারণে অনেক মেধাবী প্রার্থীরা চাকরির পরীক্ষা দিতে রাজী হয় না।সুত্রঃ  বিবিসি


Filed in: চাকরি