Breaking News
Home / Uncategorized / বিপাকে গ্রামীণফোন, বিটিআরসির হাতে সব নিয়ন্ত্রণ

বিপাকে গ্রামীণফোন, বিটিআরসির হাতে সব নিয়ন্ত্রণ

গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ও রাজস্ব নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এতে বিপাকে পড়তে পারে গ্রামীণফোন।সম্প্রতি গ্রামীণফোনকে তাৎপর্যপূর্ণ বাজারের ক্ষমতাসম্পন্ন পরিচালনকারী (এসএমপি অপারেটর) হিসেবে ঘোষণা করে বিটিআরসির পরিচালক লে. কর্নেল মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক চিঠি সেলফোন অপারেটরটির কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

গ্রামীণফোনকে এসএমপি অপারেটর হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নতুন প্রবিধানমালার ৭(১১) বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো মোবাইল অপারেটরের গ্রাহক সংখ্যা, রাজস্ব অথবা তরঙ্গের দিক দিয়ে ৪০ শতাংশের বেশি বাজার হিস্যা থাকলে তাকে তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতাধারী বা সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি) হিসেবে ঘোষণা করা যাবে। এমন কোনো অপারেটরের ক্ষেত্রে করণীয় ও বর্জনীয় ঠিক করে দিতে পারবে বিটিআরসি।

বর্তমানে গ্রাহকসংখ্যা ও রাজস্বের দিক দিয়ে গ্রামীণফোনের বাজার হিস্যা এখন ৪০ শতাংশের বেশি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, নতুন প্রবিধানমালার ফলে টেলিযোগাযোগ খাতে গুণগত মানের পরিবর্তন ঘটবে। এসএমপি অপারেটর হওয়ায় খুব শিগগিরই নতুন প্রবিধানমালার ৮ ধারা অনুযায়ী গ্রামীণফোনকে করণীয় ও বর্জনীয় ঠিক করে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

গত বছরের ১৪ নভেম্বর বিটিআরসির প্রবিধানমালা জারি করা হয়। এ নিয়ে বিটিআরসি ২০১১ সাল থেকে কাজ করছিল। ‘তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা প্রবিধানমালা-২০১৮’ শীর্ষক নতুন বিধিতে তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা বলতে এমন একক বা যৌথ ক্ষমতাকে বোঝানো হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিযোগীর আচরণ আমলে না নিয়ে এমন কাজ করা যায়, যা প্রতিযোগীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে একক বাজার হিস্যা, জোট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ, তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা, ষড়যন্ত্রমূলক যোগসাজশ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে।

প্রবিধানে আরও বলা হয়, বিটিআরসি বাজারের কেন্দ্রীয়করণ, প্রবেশে বাধার মাত্রা, সরবরাহ, মূল্য নির্ধারণ, স্বাধীনতার মাত্রা, মোট বিক্রিতে হিস্যা, রাজস্বে হিস্যা ইত্যাদি নানা বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা নির্ধারণ করতে পারবে। এসব বিধান টেলিযোগাযোগ খাতের সব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য।

দেশে এখন মোবাইল ফোন অপারেটর চারটি, যার মোট গ্রাহক ১৫ কোটি ৬৯ লাখ। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ৭ কোটি ২৭ লাখ, যা মোট গ্রাহকের ৪৬ দশমিক শতাংশ। অন্যদিকে দ্বিতীয় শীর্ষ অপারেটর রবি আজিয়াটার গ্রাহক বাজারের প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলালিংকের বাজার হিস্যা প্রায় ২২ শতাংশ। সম্প্রতি আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোন জানায়, ২০১৮ সালে ৭৪ লাখ নতুন গ্রাহক গ্রামীণফোনে যোগ দিয়েছে, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।

প্রবিধানমালা অনুযায়ী এসএমপি অপারেটর হিসেবে গ্রামীণফোনকে ঘোষণা করায় বিপাকে পড়বে দেশের শীর্ষ এ সেলফোন অপারেটরটি। গ্রাহকসংখ্যা ও রাজস্বের দিক দিয়ে বাজার হিস্যা ৪০ শতাংশের বেশি হওয়ার ফলে গ্রামীণফোনের আরও বড় হওয়ার ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করবে বিটিআরসি। অবশ্য কী কী বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে, তা নির্ভর করবে কমিশনের ওপর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা নির্ধারণে এসএমপি অপারেটরকে মোবাইল টারমিনেশন রেট, ভয়েস কল ও ডাটার মূল্য, তরঙ্গ মূল্য, অবকাঠামো ভাগাভাগি, পণ্য ও সেবার অনুমোদন প্রক্রিয়া, নতুন টেলিযোগাযোগ সেবা সরবরাহে অস্বীকারকরণ, সরবরাহের পরিমাণ হ্রাসকরণ, বাজার হিস্যা ও বাজার কেন্দ্রীয়করণ, বাজারে প্রবেশের মাত্রা, স্বাধীনতার মাত্রা বেধে দেওয়াসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে বিটিআরসির।

গ্রামীণফোনের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপারেটরদের মোট রাজস্বে তাদের হিস্যা ২০১৭ সালে প্রায় ৫৩ শতাংশ ছিল। এই বাইরে রবির ২৮ ও বাংলালিংকের ১৮ শতাংশ বাজার হিস্যা ছিল। ২০১৮ সালে গ্রামীণফোনের রেভিনিউ আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।

Check Also

আজ ১৯/২/২০১৯ তারিখ। দিনের শুরুতেই দেখে নিন টাকার রেট কত ?

এই মুহূর্তে দেশে প্রবাসে যে যেখানে আছেন বাংলা নিউজ এ স্বাগতম!  জেনে নিন আজকে বাংলাদেশের …