3:52 pm - Sunday September 24, 2017

‘ছেলেগুলোকে মারো, মেয়েটাকে নিজেদের কাছে রেখে দাও’

ভারতের স্বাধীনতা দিবসে কলেজ ছুটি। তাই ফরিদাবাদের আসোলা অভয়ারণ্যে ঘুরতে গিয়েছিলেন এক বান্ধবী-সহ সাত বন্ধু। ওরা সকলেই দিল্লীর জেএনইউয়ের সেন্ট স্টিফেন’স কলেজের শিক্ষার্থী। কিন্তু এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে যে ফিরতে হবে তা হয়তো ভাবেননি ওরা কেউই।

ফেরার পথে এক দল দুষ্কৃতীর হাতে নিগৃহীত হতে হয় তাদের। অভিযোগ, সঙ্গের ওই ছাত্রীকে সম্ভ্রমহানীর চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। শুধু তাই নয়, ধর্মবিদ্বেষী নানা কথা বলে তাদের মারধর করে ওই দুষ্কৃতীরা। ভেঙে দেওয়া হয় তাদের মোবাইল ফোন। কোনও রকমে দুষ্কৃতীদের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচেন ওই সাত শিক্ষার্থী।

হয়রানির এখানেই শেষ নয়। প্রাণ হাতে করে পালিয়ে এসে অভিযোগ দায়ের করার জন্য থানায় যান ওই শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় সূর্যখণ্ড থানার পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেখানকার এক পুলিশকর্মী তাদের বলেন, ‘এটা উদ্দাম যৌনতার দেশ নয়’। পরে অবশ্য লিখিত ভাবে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি। পরে বসন্ত কুঞ্জ(উত্তর) থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শিক্ষার্থীরা।

১৫ আগস্ট সকালে ফরিদাবাদের ওই অভয়ারণ্যে ঘুরতে গিয়েছিলেন তারা। ছুটির দিনটা সেখানে আনন্দে কাটিয়ে রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ ঘরে ফেরার পথ ধরেছিলেন ওই সাত জন। এক বন্ধুর বাইকে তিন জন প্রধান সড়কপথ ধরে। ঠিক ছিল, বাকি চার বন্ধু একটি ভাড়া গাড়িতে ফিরবেন।

অভয়ারণ্যের বাইরেই পার্ক করা ছিল তাদের গাড়ি। এক ছাত্রী-সহ চার জন বনের ভিতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ফিরছিলেন। আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা জানান, গাড়ির কাছে পৌঁছনোর আগেই তিন অপরিচিত ব্যক্তি তাঁদের পথ আটকায়। ওই মেয়েটির সঙ্গে বাকিদের কী সম্পর্ক রয়েছে, তা নিয়ে কুরুচিকর প্রশ্ন করতে শুরু করে।

কেন তারা এখানে এসেছেন, সে নিয়েও শুরু হয় কথা কাটাকাটি। কিছু ক্ষণের মধ্যেই দু’পক্ষের বচসা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক জন ছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের। তাকে ঘিরে শুরু হয় ধর্মবিদ্বেষী মন্তব্য।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কিছু ক্ষণের মধ্যেই সংখ্যায় বাড়তে থাকে দুষ্কৃতীরা। লাঠিসোটা দিয়ে মারধর শুরু করে তারা। অভিযোগ, শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করা হয় ওই ছাত্রীকে। অন্য শিক্ষার্থীদের মেরে মেয়েটিকে নিজেদের কাছে ‘রেখে’ দেওয়ার কথাও বলতে থাকে তারা।

মুসলিম শিক্ষার্থী জানান, দাড়ি থাকার ‘অপরাধে’ তাকে বেধড়ক মারধর করে দুষ্কৃতীরা। পরে স্থানীয়দের সাহায্যে কোনও মতে পালিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশের ডেপুটি কমিশনার আস্থা মোদি জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের বক্তব্য আবার রেকর্ড করা হতে পারে। এমনকী তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে নিয়ে গোটা ঘটনার পুনর্নির্মাণও করা হতে পারে।


Filed in: বিভিন্ন সংবাদ