সেই তরুণীকে পূত্রবধু বানাতে ৩ টি শর্ত দিলেন বাবা


সুদূর জামালপুর জেলা থেকে বিয়ের দাবিতে বরগুনা জেলায় আসা প্রেমিকাকে পুত্রবধু হিসেবে মেনে নিতে ৩টি শর্ত প্রদান করেছেন ছেলের বাবা মাহমুদুল হাসান।

গত ৫ মে বৃহস্পতিবার রাতে ঐ তরুণীর সাথে দেখা করে এইসব শর্ত পূরণের প্রস্তাব দেন তিনি। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঐ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান হারুণ অর রশিদ ওরফে সোনা মিয়া।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোনা মিয়া শুক্রবার সকালে জানান, মাহমুদুল হাসানের পিতা ব্যাংক কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে চান্দখালী বাজার সংলগ্ন তার ভাড়া বাসায় আসেন।

এ সময় উক্ত বাসায় অবস্থান নেয়া তরুণীর সাথে তিনি কথা বলেন। বিয়ের দাবি মানতে তিনি তরুণীকে ৩ টি শর্ত দিয়েছেন। শর্তগুলো হলো,

১। ঐ তরুণীর আগের বিয়ের তালাকনামা দেখানো,

২। অভিভাবক (বাবা—মা) নিয়ে আসা ও

৩। মিডিয়ায় কথা না বলা।

এসব শর্ত পূরণ করলে তিনি তার পুত্র মাহমুদুল হাসানের সাথে ঐ তরুণীর বিয়ে দেবেন। তবে শর্ত পূরণের ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়নি।

ইউপি চেয়ারম্যান সোনা মিয়া আরও জানান, জামালপুর থেকে আসা ঐ তরুণী মাহমুদুল হাসানের বাবার শর্ত মেনে নিয়ে আপাতত মোশাররফ হোসেনের ভাড়া বাসাতেই অবস্থান করবেন।

তবে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে বিয়ের দাবি মেনে নেবেন না মাহমুদুল হাসানের বাবা মোশাররফ হোসেন। শর্তের বিষয়ে ঐ তরুণীর সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এছাড়াও মাহমুদুল হাসানের বাবাও কোনো মন্তব্য করেননি।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোনা মিয়া বলেন, আমরা ছেলের বাবা, মামা ও ফুপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বৈঠকে বসে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তাকে যে শর্ত দেওয়া হয়েছে সেটা পূরণ করলে মাহমুদুল হাসানের সাথে তাঁর বিয়ের দাবি মেনে নেয়া হবে। যেহেতু বিষয়টি আলোচিত, এ কারণে মেয়েটির লিগ্যাল গার্ডিয়ান ছাড়া বিয়ে সম্ভব নয়। যদি তাঁর বাবা–মা ও আগের বিয়ের তালাকনামা হাজির করতে পারে তবেই বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হবে। আপাতত এটাই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ঐ তরুণী জানান জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে তাঁর গ্রামের বাড়ি। এ ছাড়াও ঢাকার উত্তরায় থাকেন এবং সেখানে একটি বেসরকারি ভার্সিটিতে আইন বিষয়ে পড়ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ঐ তরুণী আরও দাবি করেন, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইউবিটি) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত মাহমুদুল হাসানের সাথে পরিচয়ের সূত্রে তরুণীর প্রেম হয়।

প্রেমিক মাহমুদুল হাসানও ঢাকার উত্তরায় থেকে পড়াশোনা করেন। ৩ বছর প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের জন্য সম্প্রতি চাপ দিলে মাহমুদুল নানা অজুহাতে এড়িয়ে যেতে থাকেন।

রমজানের রোজার শুরুতে মাহমুদুল গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। বাড়িতে আসার পর তরুণীর সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। কয়েক দিন ধরে তাঁর ফোন নম্বরটি বন্ধ। এরপরই তরুণী বরগুনায় এসে চান্দখালী বাজার সংলগ্ন মাহমুদুলের বাসার সামনে অবস্থান নেয়। এরপরই মাহমুদুল ও তাঁর পরিবার বাসায় তালা দিয়ে গা ঢাকা দেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.