গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ |
|||
| বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে টঙ্গীর একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সোমবার সকাল থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। অবরোধের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাড়ি চলাচল সকাল ৯টা থেকে বন্ধ ছিল। এর ফলে সড়কের দুইপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে প্রশাসন কারখানা কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকের আশ্বাস দিলে দুপুর পৌনে ২টায় শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। টঙ্গী থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা সাংবাদিকদের জানান, টঙ্গীর সেনাকল্যাণ ভবনে অবস্থিত জায়ান্ট অ্যান্ড সিক্স এইচ পোশাক কারখানাটির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। বিল বকেয়া পড়ায় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পর ১৪ জানুয়ারি বিনা নোটিশে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি জানান, সোমবার সকাল ৮টার দিকে সহস্রাধিক শ্রমিক বকেয়া বেতন-ভাতার জন্য কারখানায় যায়। কর্তৃপক্ষের কাউকে না পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে সকাল ৯টার দিকে শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। ওসি জানান, দুপুর ১২টার পর থেকে যানবাহন আব্দুল্লাহপুর হয়ে চলতে শুরু করলেও দুপুর ২টা পর্যন্ত ওই মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকে। অবরোধ চলাকালে মহাসড়কসহ আশপাশের সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে সেখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ কারণে কোনো ভাংচুরের ঘটনা ঘটেনি বলে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মনোয়ার হোসেন। ২০০৭ সালে বিজিএমইএ সহসভাপতি মো. ফারুক হাসান ওই কারখানা হাসান সাইদ ও তার ভাই নওশাদ হাসানের কাছে বিক্রি করেন। ওসি বলেন, "বর্তমান মালিকরা বলছেন, কারখানা বিক্রির সময় ব্যাংক ঋণের সুরাহা করার শর্ত ছিলো, যা আগের মালিক পালন করেনি। অন্যদিকে ফারুক হোসেন বলছেন, সব শর্তই পালন করা হয়ছে।" তিনি জানান, বিকাল ৫টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক কামাল উদ্দিন তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, বিজিএমইএ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, মো. মুনসুর খালিদ ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা কারখানা মালিকের জন্য অপেক্ষা করলেও কেউ আসেননি। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় একই স্থানে আবারো বৈঠক ডাকা হয়েছে।
|






